বিশেষ প্রতিবেদন | ধম্মইনফো
ভারতের লাদাখ অঞ্চলের দুর্গম ও উচ্চ-পর্বত পরিবেষ্টিত জাংস্কার উপত্যকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক দোর্জে জোং নুনারী (Dorjee Zong Nunnery)। ১৪শ শতকে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৭০০ বছরের প্রাচীন এই তিব্বতি বৌদ্ধ ভিক্ষুণী আশ্রমে উন্মোচিত হলো শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত। ভিক্ষুণী এবং স্থানীয় সাধারণ বালিকাদের আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আলো পৌঁছাতে আশ্রম প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে এক সুসজ্জিত নতুন বিদ্যালয় ভবন ও ছাত্রাবাস।
আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সংবাদমাধ্যম বুদ্ধিস্টডোর গ্লোবাল (Buddhistdoor Global) এবং তিবেতান নানস প্রজেক্ট (Tibetan Nuns Project – TNP) প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রকাশ্য তথ্যচিত্রে (YouTube) এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের চিত্র উঠে এসেছে।
৭০০ বছরের ইতিহাস ও আধুনিক শিক্ষার মেলবন্ধন
দোর্জে জোং নুনারী ঐতিহ্যগতভাবে জেলুগ (Gelug) ধারার প্রখ্যাত সাধক শেরাব জাংপো (Master Sherab Zangpo) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। শত শত বছর ধরে এটি কঠোর ধ্যান-সাধনার জন্য পরিচিত হলেও এখানে নারী শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
২০১৯ সালে ‘বেটসি গর্ডন ফাউন্ডেশন’ এবং তিবেতান নানস প্রজেক্টের সহযোগিতায় নতুন এই বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মহামারী ও দুর্গম ভৌগোলিক প্রতিকূলতা পার করে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই বিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এক ছাদের নিচে ভিক্ষুণী ও সাধারণ বালিকারা
হিমালয়ের এই দুর্গম অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবেই মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ ছিল অপ্রতুল। দোর্জে জোং নুনারীর নতুন এই উদ্যোগ সেই সামাজিক চিত্র বদলে দিচ্ছে:
- শিক্ষার্থী সংখ্যা: নতুন এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে—যার মধ্যে ১৩ জন নবীন ভিক্ষুণী এবং ১৪ জন স্থানীয় সাধারণ বালিকা।
- পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা: প্রাঙ্গণেই ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- উচ্চশিক্ষার সুব্যবস্থা: ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যাতে শহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্য ‘তিবেতান নানস প্রজেক্ট’-এর অর্থায়নে একটি ডেডিকেটেড স্কুল বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ও উদযাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাংস্কার উপত্যকার ধর্মীয় প্রতিনিধি, স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ভিক্ষুণী সমাজ একত্রিত হন। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ভিক্ষুণী ও অতিথিরা উপস্থিত থেকে শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে নবীন ভিক্ষুণী এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক দলের সমন্বয়ে ঐতিহ্যবাহী লাদাখি নৃত্য ও গান পরিবেশন করা হয়।
তিবেতান নানস প্রজেক্টের সংশ্লিষ্টরা জানান, “এই বিদ্যালয়টি কেবল একটি ইটের দালান নয়; বরং দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি নারী শিক্ষার ক্ষমতায়নের এক অনন্য প্রতীক।”

স্বপ্ন এবং দায়িত্ববোধ থেকে ধম্মইনফো-ডট-কম এর সূচনা। ২০১১ সালে বাংলায় প্রথম অনলাইন বৌদ্ধ সংবাদ পোর্টাল হিসেবে ধম্মইনফো যাত্রা শুরু করে, যা বৌদ্ধধর্ম, ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং নীতিমালা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারে পাঠকের ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০১২ সালে রামুতে মৌলবাদী হামলার পর এটি একটি শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তর বাংলা ভাষী বৌদ্ধদের কাছে পরিচিতি লাভ করে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১৮ সালে সাইটটি প্রকাশনা বন্ধ করা হয়, ২০২৪ সালে ধম্মবিরীয় ভিক্ষুর নেতৃত্বে এটি আবার চালু হলে ধম্মইনফো বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে সংবাদ, ঐতিহাসিক নিদর্শন, মণিষীদের জীবনী প্রকাশ, এবং ধর্মীয় উন্নয়নে কাজ করছে।
