আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিল’ (ডব্লিউবিএসসি)-এর ৬০তম বার্ষিকী (হীরক জয়ন্তী) এবং ১১তম সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় নির্বাহী কমিটির সভা যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কায়। আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সংবাদমাধ্যম বৌদ্ধধর্মবিষয়ক পোর্টাল ‘বুদ্ধিস্টডোর গ্লোবাল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলন শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৬৬ সালে যে ভূমিতে প্রথম বিশ্ব বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, দীর্ঘ ছয় দশক পর পুনরায় সেই ঐতিহাসিক জন্মভূমিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এই আয়োজন।

তিন ঐতিহ্যের ভিক্ষুদের অংশগ্রহণ
বুদ্ধিস্টডোর গ্লোবালের সূত্র অনুযায়ী, এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধধর্মের প্রধান তিনটি ধারা—থেরবাদ, মহাযান ও বজ্রয়ানের প্রায় ৫০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত এসব ভিক্ষু ও প্রতিনিধির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার মহানায়কে থেরা সমন্বয়ে আরও ৫০০ জন স্থানীয় প্রবীণ ভিক্ষুসঙ্ঘ এতে উপস্থিত থাকবেন।
সব মিলিয়ে এক হাজারের বেশি ভিক্ষু ও অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজনটি বৈশ্বিক বৌদ্ধ ঐক্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সুচারু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সফল করতে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়কের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরি করা হয়।
সম্মেলনের সামগ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে বিদেশি ভিক্ষু ও প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনার জন্য বিশেষ ভিআইপি কাউন্টার ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ের জন্য বুদ্ধ শাসন মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রতিরক্ষা সচিব, পুলিশ প্রধান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বর্ষাবাস সমাপনের পরপরই এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বিশ্বের কাছে শ্রীলঙ্কার বুদ্ধশাসনের পুনর্জাগরণ তুলে ধরার পাশাপাশি দেশটির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বিশেষ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

