বিশেষ কূটনৈতিক ও বিশ্ব ঐতিহ্য প্রতিবেদন | ধম্মইনফো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্প্রতি সমাপ্ত উজবেকিস্তান সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তাসখন্দে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শভকাত মির্জিওয়েভ যৌথভাবে জানান, উজবেকিস্তানের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনে এখন থেকে সরাসরি কাজ করবে ভারত ও উজবেকিস্তান।
সংবাদ মাধ্যম জাগরণ ত্রিপুরা (Jagaran Tripura) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফায়াজ তেপা ও কারা তেপা: বৌদ্ধ প্রত্নস্থল সুরক্ষায় চুক্তি
সফরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের উন্নয়নে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উজবেকিস্তানের সাংশ্কৃতিক কেন্দ্র টারমেজ (Termez) অঞ্চলের অত্যন্ত প্রাচীন ও বিশ্বখ্যাত দুই বৌদ্ধ প্রত্নস্থল—’ফায়াজ তেপা’ (Fayaz Tepa) এবং ‘কারা তেপা’ (Kara Tepa)-র সুরক্ষা ও সংরক্ষণে একটি বিশেষ সম্মতিপত্র স্বাক্ষর।
ভারতের পুরাতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ (ASI) এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ বিহার, স্তূপ এবং প্রাচীন পুরাকীর্তিগুলো ডিজিটাল ৩ডি মডেলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণে সরাসরি সহায়তা প্রদান করবেন। এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উল্লেখ করেন যে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্কের মূল ভিত্তি লুকিয়ে রয়েছে হাজার বছরের দীর্ঘ প্রাগৈতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্যে, আর এই বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ সেই ঐতিহাসিক মেলবন্ধনকে আরও মজবুত করবে।
ভাষা, সংস্কৃতি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা
বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উজবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিন্দি শিক্ষার প্রসারে ১০০টি ‘লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হিন্দি স্কলারশিপ’ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সাথে তাসখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR)-এর উদ্যোগে একটি ‘সংস্কৃত চেয়ার’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা, আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এশিয়ায় বুদ্ধশাসনের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ
মধ্য এশিয়ার ঐতিহাসিক রেশম পথ (Silk Road) ঘেঁষা টারমেজ অঞ্চলটি প্রাচীনকালে কুশান সাম্রাজ্যের অধীনে বৌদ্ধধর্ম ও গ্রেকো-বৌদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতির প্রধান মিলনকেন্দ্র ছিল। ভারতের এই প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহায়তায় কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কই জোরদার হচ্ছে না, বরং মধ্য এশিয়ার বিলুপ্তপ্রায় বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও কৃষ্টি বিশ্বমঞ্চে নতুন করে স্বীকৃতি লাভ করছে।

