বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শহর নিউ ইয়র্কের সুপরিচিত ‘হাই লাইন’ পার্কে এবার বসতে যাচ্ছে এক বিশাল বুদ্ধমূর্তি। ভিয়েতনামি-আমেরিকান শিল্পী তুয়ান অ্যান্ড্রু এনগুয়েন (Tuan Andrew Nguyen) নির্মিত ২৭ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি এ বছর বসন্তকাল (spring) থেকে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ‘দ্য লাইট দ্যাট শাইনস থ্রু দ্য ইউনিভার্স’ (The Light That Shines Through the Universe) বা ‘মহাবিশ্ব উদ্ভাসিত করা আলো’ শিরোনামের এই শিল্পকর্মটি মূলত ধ্বংস হয়ে যাওয়া বামিয়ান বুদ্ধমূর্তির আদলে তৈরি।
ভাস্কর্যটির মূল অনুপ্রেরণা হলো আফগানিস্তানের বামিয়ান উপত্যকার সেই প্রাচীন বুদ্ধমূর্তিগুলো, যা ২০০১ সালে তালেবানরা ধ্বংস করে দিয়েছিল। শিল্পী এনগুয়েন তাঁর এই কাজের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করার পাশাপাশি উগ্রবাদ এবং ধ্বংসাত্মক মানসিকতার বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন।

ভাস্কর্যটি বেলেপাথর (Sandstone) দিয়ে তৈরি। তবে এর একটি বিশেষ দিক হলো, এতে ব্যবহার করা হয়েছে পিতলের কামানের গোলার খোল এবং স্ক্র্যাপ মেটাল। শিল্পী ভিয়েতনাম যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া এই ধাতুগুলো গলিয়ে বুদ্ধমূর্তির হাত এবং অন্যান্য অংশে ব্যবহার করেছেন। ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত উপাদানকে কীভাবে শান্তির প্রতীকে রূপান্তর করা যায়, এটি তারই এক অনন্য উদাহরণ হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন। ভাস্কর্যটির দুই হাত ‘অভয় মুদ্রা’ এবং ‘করুণা মুদ্রা’ প্রদর্শন করছে, যা অভয় এবং দয়ার প্রতীক।
প্রদর্শনীর স্থান ও সময়:
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে পরিত্যক্ত একটি উড়াল রেললাইনকে পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে, যা ‘হাই লাইন’ নামে পরিচিত। এই পার্কের ৩০ নম্বর স্ট্রিট এবং ১০ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের (New York City’s 10th Avenue and 30th Street) সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘প্লিন্থ’ (Plinth) নামক প্ল্যাটফর্মে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে সেখানে থাকা ‘ডাইনোসর’ নামক একটি বিশাল কবুতরের মূর্তির স্থলাভিষিক্ত হবে এই বুদ্ধমূর্তি। এটি ২০২৭ সালের শরৎকাল পর্যন্ত টানা ১৮ মাস সেখানে প্রদর্শিত হবে।
‘ফ্রেন্ডস অফ দ্য হাই লাইন’-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যালান ভ্যান ক্যাপেল জানান, এই ভাস্কর্যটি আমাদের সম্মিলিত মানবিক স্মৃতি এবং অভিন্ন ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হাই লাইন আর্ট-এর কিউরেটর সিসিলিয়া আলেমানি বলেন, “এই শিল্পকর্মটি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ও কাব্যিক জবাব। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্থান ধ্বংস হলেও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং ইতিহাস কখনো মুছে যায় না।”
প্রদর্শনী চলাকালীন দর্শকদের জন্য মেডিটেশন বা ধ্যান এবং মানসিক প্রশান্তিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শহুরে ব্যস্ততার মাঝে এই বিশাল বুদ্ধমূর্তিটি পথচারীদের কিছুটা সময় থমকে দাঁড়াতে, চিন্তা করতে এবং বিশ্বশান্তি ও সহনশীলতা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন। তথ্যসূত্র: বুদ্ধিস্টডোর গ্লোবাল এবং স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

প্রকাশক ও সম্পাদক, ধম্মইনফো-ডট-কম
