বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, ত্রয়োদশ সংঘরাজ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অগ্গমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্হবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পশ্চিম বিনাজুরি শ্মশান বিহার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই শোকাবহ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে ঘিরে চট্টগ্রামের বৌদ্ধ জনপদে এখন প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
২০২০ সালে ১৩ ডিসেম্বর তাঁর প্রয়াণের পর থেকে ভক্ত ও অনুগামীরা এই দিনটির জন্য নানান প্রস্তুতি করছিলেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কারণে দীর্ঘ সময় পর এই মহীয়সী ভিক্ষুর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। চট্টগ্রামের রাউজানে পশ্চিম বিনাজুরি শ্মাশান বিহার প্রাঙ্গণে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং কয়েক লাখ ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত তিলকাবংশ মহাস্থবির গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:
- প্রথম দিন (২৯ জানুয়ারি): সকালে মঙ্গলসূত্র পাঠ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন এবং প্রয়াত সংঘরাজের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ। দুপুরে দেশ-বিদেশের ভিক্ষু সংঘের উপস্থিতিতে বিশেষ আলোচনা ও প্রার্থনা।
- দ্বিতীয় দিন (৩০ জানুয়ারি): সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ সভা, যেখানে সরকারের মন্ত্রীগণ, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী ‘চন্দন চিতার’ মাধ্যমে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্হবির ছিলেন একাধারে সমাজসংস্কারক, পন্ডিত এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান পথপ্রদর্শক। সমাজসেবা ও শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি কেবল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এই জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড থেকেও উচ্চপদস্থ ভিক্ষু প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে আয়োজক কমিটি।

