বাংলাদেশে বৌদ্ধসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে সতর্ক করেছে শ্রীলঙ্কা–বাংলাদেশ বৌদ্ধ সংহতি ফ্রন্ট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের সব বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রচার সম্পাদক ভেনারেবল কাবিস্সারা থেরো বলেন, বাংলাদেশের আদিবাসী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বৌদ্ধদের ভবিষ্যৎ এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভেনারেবল কাবিস্সারা থেরো বলেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধদের ওপর নিপীড়ন কোনো নতুন ঘটনা নয়। তিনি ২০১২ সালের ঘটনাগুলোর কথা স্মরণ করেন, যখন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলায় ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ও প্রায় ১০০টি বৌদ্ধ পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ঘটনাগুলো আজও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মনে গভীর ক্ষত হয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এই সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা–বাংলাদেশ বৌদ্ধ সংহতি ফ্রন্টের তথ্যমতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মোট ২,৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার শিকার শুধু বৌদ্ধরাই নন, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও একই ধরনের হুমকি ও নিপীড়নের মুখে পড়ছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভেনারেবল কাবিস্সারা থেরো বলেন, “এটি কোনো একক ধর্মের সমস্যা নয়। সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নাগরিক ও মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।”
তিনি জানান, বাংলাদেশে বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষার দাবিতে শ্রীলঙ্কার মহা নায়ক থেরো, সমগ্র মহাসঙ্ঘ এবং বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভেনারেবল কাবিস্সারা থেরোর কথায়, “বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের কাছে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে সেখানে সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের জীবন বিপন্ন হলে, নীরব থাকার সুযোগ নেই। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব—কণ্ঠ তুলতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” — dailymirror.lk

