বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও চিন্তাবিদদের অংশগ্রহণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় বৈশ্বিক বৌদ্ধ সম্মেলন (Second Global Buddhist Summit)।
এই সম্মেলনের আয়োজক আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (IBC)। দিল্লির ভারত মণ্ডপম (Bharat Mandapam)-এ অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮০০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—
“সমষ্টিগত জ্ঞান, ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ এবং পারস্পরিক সহাবস্থান”।
আয়োজকদের মতে, আধুনিক বিশ্বের সংঘাত, সহিংসতা, সামাজিক বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের মতো সংকটগুলো মোকাবিলায় বুদ্ধধর্মের অহিংসা, করুণা ও মধ্যমার্গ দর্শন কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে এই সম্মেলনে।
সম্মেলনে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বৌদ্ধ সংঘনেতা, ধর্মীয় শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, নীতি নির্ধারক এবং গবেষকরা অংশ নেবেন।
আয়োজক সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশের সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে
সম্মেলনের আলোচনাকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সামাজিক ঐক্য ও সমষ্টিগত প্রজ্ঞা
- বুদ্ধধর্ম ও নৈতিক জীবিকা
- স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও টেকসই জীবনধারা
- শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় বুদ্ধধর্মের ভূমিকা
- সংঘের শুদ্ধ আচরণ ও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব
আয়োজকদের মতে, এসব আলোচনা শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক সমাজব্যবস্থার বাস্তব সমস্যার সমাধানে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে।
এছাড়া সম্মেলন উপলক্ষে দুটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
এর একটি ভারতীয় বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় নিদর্শন নিয়ে এবং অন্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বুদ্ধধর্ম প্রচারে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরবে।
এছাড়া, বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘NORBU’ প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আয়োজকরা একে আধুনিক যুগের “কল্যাণমিত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা তরুণ প্রজন্মকে বুদ্ধধর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়ক হবে।
এর আগে প্রথম বৈশ্বিক বৌদ্ধ সম্মেলন ২০২৩ সালের এপ্রিলে নয়াদিল্লিতেই অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বুদ্ধধর্মের ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকদের আশা, দ্বিতীয় সম্মেলনটি বৌদ্ধ বিশ্বে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তির বার্তা আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।

