২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ইংরেজী

মহামুনি বিহার

Friday, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ ২২:২৩ প্রতীক

চট্রগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী ইউনিয়নের, পাহাড়তলী গ্রামের ঠিক মধ্যস্থলে একটি অনুচ্চ টিলার উপর বিহারটি অবস্থিত। বিহারটি প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে মতবিরোধ আছে। কারও ধারণা, ১৮১৩ সালে পুণ্যাত্মা ভিক্ষু চাইংসা ঠাকুর স্বগ্রামবাসীর সামগ্রিক সহায়তায় বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু . রামচন্দ্র বড়ুয়ার মতে, মহামুনি মূর্তি মন্দির ১৮০৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন১২৬৭ মগাব্দের ১০০ বৎসর পূর্বে (১৮০৫ খ্রিঃ) মহামুনি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় নিঃসন্দেহে বলা যায় ঊনবিংশ শতকের প্রথম দুদশকের মধ্যেই বিহার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রখ্যাত সমাজকর্মী উমেশ চন্দ্র মুৎসুদ্দী তাঁর পুস্তিকায় লিখেছেন,

পাহাড়তলীর অমর চাইংগা ঠাকুর আরাকানের মহামুনি মূর্তি দেখে তার একটি চিত্রাংকন করে আনেন এবং গ্রামবাসীর চাঁদায় আরাকানের শিল্পী দ্বারা মহামুনি মূর্তি নির্মাণ করে বংশ (বাঁশ) নির্মিত ছাদ যুক্ত গৃহে রক্ষা করেন।

এই বংশনির্মিত ছাদযুক্ত গৃহটি আগুনে পুড়ে গেলে মানরাজা বাহাদুর প্রমাতামহ পালং সম্প্রদায়ের অধিনায়ক কুঞ্জ ধামাই এর বদান্যতায় ফুট পুরু দেওয়াল ২৮ দ্ধ ২৮ ফুট বর্গাকৃতির  গম্বুজসহ ৫৮ ফুট উঁচু একটি কক্ষে ফুট উঁচু ১৫ দ্ধ ১৫ ফুট বর্গাকৃতির বেদীর উপর ৩২ ফুট উঁচু বুদ্ধ মূর্তিটি সংস্থাপন করেন। অতঃপর তৎপুত্র কেও চাঁই চৌধুরী পিতার নির্মিত মহামুনি মন্দিরের চারদিকে বারান্দা নির্মাণ করে চারটি গম্বুজসহ স্তম্ভ তৈরি করেন। এখানে প্রতি চৈত্র সংক্রান্তি দিবসে মেলা বসে এবং তা একমাস স্থায়ী হয়। মেলায় জনসাধারণের পিপাসা নিবারণের জন্য কুঞ্জ ধামাই মন্দিরের উত্তর পাশের্^ একটি  দীঘি খনন করেন। দীঘিটি এখনো বর্তমান এবং ধামাই দীঘি নামে পরিচিত। ছাড়াও  কুঞ্জ ধামাই মন্দির হতে অনতি দূরে  (এক তৃতীয়াংশ মাইল পূর্বে) পাহাড়ের পাদদেশে একটি ভিক্ষু সীমা প্রতিষ্ঠা করেন। ভিক্ষু সীমাই চট্রগ্রামের প্রথম ভিক্ষু সীমা। এটি হাইঞ্জারঘোনা ঠাকুর (ভিক্ষু) গড়ানী (সীমা) নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ। এই ভিক্ষু সীমা (পাষাণ নিমিত্ত) প্রতিষ্ঠার পূর্বে প্রাচীনকালে উপসম্পদা কর্ম সমাপনের অন্য উদক বা নদী সীমা ব্যবহার করা হতো বলে প্রবীনদের কাছে জানা যায়।

এ বিহার সংলগ্নস্থানে বর্তমানে একটি অনাথ ও বিধবা আশ্রম গড়া হয়েছে। তৎসঙ্গে জাপান বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে কুঠিরশিল্পতাঁত ও টাইপ প্রশিক্ষণ কেন্দ স্থাপন করা হয়েছে।

পূর্ণিমা সমূহ
প্রবারণা পূর্ণিমা
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এর অপর নাম আশ্বিনী পূর্ণিমা। ‘প্রবারণা’… ( বিস্তারিত )
ফাল্গুনী পূর্ণিমা
বুদ্ধত্ব লাভের পর দীর্ঘকাল পিতা- স্ত্রী-সন্তানসহ জ্ঞাতিদের সঙ্গে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয়নি। সবার… ( বিস্তারিত )
আষাঢ়ী পূর্ণিমা
আষাঢ়ী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন। বর্ণিত আছে কপিলাবস্তু নগরে… ( বিস্তারিত )
আরও
সমসাময়িক
ফ্রান্সে কম্বোডিয়ান বৌদ্ধ বিহারে ১৮ জুন শনিবার মহতি সংঘদান সুসম্পন্ন
আজ ১৮ জুন শনিবার সকাল ১০টায় শিল্প সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রান্সের… ( বিস্তারিত )
ফ্রান্সে আগামী ২৯মে রবিবার বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন
মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্মৃতি বিজড়িত দিন বৈশাখী পূর্ণিমা আগামী… ( বিস্তারিত )
আরও
বুদ্ধের জীবনী
ছোটদের গৌতম বুদ্ধ
আজকে যারা ছোট, ভবিষ্যতে তারাই একদিন বড় হবে, জাতিকে নেতৃত্ব দিবে। তাই… ( বিস্তারিত )
বুদ্ধের সার্বজনীন উপদেশ
১) জগতে শত্রুতার দ্বারা কখনো শত্রুতার উপশম হয়না, মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম… ( বিস্তারিত )
আরও
বন্দনা
ভিক্ষু ও বোধি বন্দনা
ভিক্ষু বন্দনাওকাস, বন্দামি ভন্তে, দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে। দুতিযাম্পি… ( বিস্তারিত )
দন্ত ধাতু ও সকল চৈত্য বন্দনা
দন্ত ধাতু বন্দনাএকা দাঠা তিদসপুরে, নাগপুরে অহু । একা গান্ধার বিসযে, একাসি… ( বিস্তারিত )
বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের বন্দনা
বুদ্ধের নয় গুণ বন্দনাইতি’পি সো ভগবা অরহং, সম্মাসম্বুদ্ধো, বিজ্জাচরণং সম্পন্নো, সুগতো, লোকবিদু,… ( বিস্তারিত )
আরও