২৫৬২ বুদ্ধাব্দ ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ইংরেজী

আষাঢ়ী পূর্ণিমা

মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০১৬ ০২:১৬ প্রতীক

আষাঢ়ী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন। বর্ণিত আছে কপিলাবস্তু নগরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপিত হতো। এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় রাজা শুদ্ধোধনের মহিষী রাণী মহামায়া উপোমথ ব্রত গ্রহণ করলেন। সে রাত্রে রাণী মহামায়া স্বপ্নমগ্না হয়ে দেখলেন যে চার দিক থেকে পাল দেবগণ এসে পালঙ্কসহ তাকে নিয়ে গেল হিমালয়ের পর্বতোপরি এক সমতল ভূমির ওপর। সেখানে মহামায়াকে সুউচ্চ এক মহাশাল বৃক্ষতলে রেখে দেবগণ সশ্রদ্ধ ভঙ্গিমায় এক পাশে অবস্থান দাঁড়িয়ে পড়ল। অত:পর দেবগণের মহিষীরা এসে মায়াদেবীকে হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করিয়ে দিব্য বসন-ভূষণ ও মাল্যগন্ধে সাজিয়ে দিলেন। অনতিদূরে একটি শুভ্র রজতপর্বতে ছিল একটি সুবর্ণ প্রাসাদ। চারিদিক থেকে পাল দেবগণ মহারাজা পুনঃপালঙ্কসহ দেবীকে সেই প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে দিব্যশয্যায় শুইয়ে দিল। তখন অদূরবর্তী সুবর্ণ পর্বত থেকে এক শ্বেতহসত্মী নেমে এসে উত্তরদিক থেকে অগ্রসর হয়ে রজতপর্বতে আরোহণ করলেন। রজত শুভ্রশু একটি শ্বেতপদ্মের রূপ পরিগ্রহ করে কবীবর মহাক্রোষ্ণনাদে সুবর্ণ প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনবার মাতৃশয্যা প্রদক্ষিণপূর্বক মায়ের শরীরের দক্ষিণ পার্শ্বভেদ করে মাতৃজঠরে প্রবেশ করলেন। পর দিন প্রত্যুষে রাণী মহামায়া রাজা শুদ্ধোধনকে স্বপ্ন বৃত্তান্ত অবহিত করলেন। কালবিলম্ব না-করে রাজা শুদ্ধোধনকে চৌষট্টিজন জ্যোতির্বিদ এনে স্বপ্নের ফল জানতে চাইলেন। তারা বললেন, "মহারাজ চিন্তা করবেন না, আপনার মহিষী সন্তানসম্ভবা। তিনি এমন এক পুত্ররত্ন লাভ করবেন যার ফলে বসুন্ধরা ধন্য হবে।" আষাঢ় মাসের আরেক পূর্ণিমা রাতে মাত্র ২৯ বৎসর বয়সে তিনি স্ত্রী-পুত্র-রাজ্য সব মায়া ছেড়ে গৃহত্যাগ করেন। গয়ার বোধিদ্রুম মূলে একাধারে ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর পরম জ্ঞান "মহাবোধি" লাভ করেন। নবলব্ধ ধর্ম প্রকাশের উদ্দেশ্যে তিনি আরেক আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে সারানাথের ঈষিপত্তন মৃগদাবে আগমন করেন। বুদ্ধ এক আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাতে ঈষিপত্তন মৃগদাবে সেই পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদেরকে প্রথম ধর্মদেশনা "ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র" দেশনা করলেন। কৌণ্ডণ্য, বপ্প, ভদ্দীয়, মহানাম ও অশ্বজিত্—এ পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের কাছে তাঁর নবলব্ধ সদ্ধর্মকে প্রকাশ করেন। পরে আরো এক পূর্ণিমা তিথিতে তিনি মাতৃদেবীকে সদ্ধর্ম দেশনার জন্য তাবতিংস স্বর্গে গমন করেন। অনুরূপ পূর্ণিমার তিথিতেই বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান গ্রহণ করে। বর্ষাবাস ভিক্ষুদের অন্যতম বাৎসরিক আচার বর্ষাবাস শুরু হয় আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে; শেষ হয় আশ্বিনী পূর্ণিমাতে। বর্ষাকালে সিক্ত বসনে এদিক-ওদিক ঘোরা-ফেরা করা, বস্ত্র তুলে চলা-ফেরা করা মানায় না বিধায় যেখানে-সেখানে ভিক্ষুদের বাস না করে গৌতম বুদ্ধ বর্ষাবাস গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন বৌদ্ধ বিনয় মতে যে ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করেন তিনিই কঠিন চীবর লাভের যোগ্য হন। বর্ষাবাস যাপন ব্যতিরেকে চীবর লাভ করা যায় না। যে বিহারের ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করবে না, সেই বিহারে কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানও করা যাবে না। বর্ষাবাসের জন্য ভিক্ষুরা সংঘারাম, বিহার ও সাধনাকেন্দ্র বেছে নেয়।

পূর্ণিমা সমূহ
প্রবারণা পূর্ণিমা
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এর অপর নাম আশ্বিনী পূর্ণিমা। ‘প্রবারণা’… ( বিস্তারিত )
ফাল্গুনী পূর্ণিমা
বুদ্ধত্ব লাভের পর দীর্ঘকাল পিতা- স্ত্রী-সন্তানসহ জ্ঞাতিদের সঙ্গে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয়নি। সবার… ( বিস্তারিত )
আষাঢ়ী পূর্ণিমা
আষাঢ়ী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন। বর্ণিত আছে কপিলাবস্তু নগরে… ( বিস্তারিত )
আরও
সমসাময়িক
ফ্রান্সে কম্বোডিয়ান বৌদ্ধ বিহারে ১৮ জুন শনিবার মহতি সংঘদান সুসম্পন্ন
আজ ১৮ জুন শনিবার সকাল ১০টায় শিল্প সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রান্সের… ( বিস্তারিত )
ফ্রান্সে আগামী ২৯মে রবিবার বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন
মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্মৃতি বিজড়িত দিন বৈশাখী পূর্ণিমা আগামী… ( বিস্তারিত )
আরও
বুদ্ধের জীবনী
ছোটদের গৌতম বুদ্ধ
আজকে যারা ছোট, ভবিষ্যতে তারাই একদিন বড় হবে, জাতিকে নেতৃত্ব দিবে। তাই… ( বিস্তারিত )
বুদ্ধের সার্বজনীন উপদেশ
১) জগতে শত্রুতার দ্বারা কখনো শত্রুতার উপশম হয়না, মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম… ( বিস্তারিত )
আরও
বন্দনা
ভিক্ষু ও বোধি বন্দনা
ভিক্ষু বন্দনাওকাস, বন্দামি ভন্তে, দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে। দুতিযাম্পি… ( বিস্তারিত )
দন্ত ধাতু ও সকল চৈত্য বন্দনা
দন্ত ধাতু বন্দনাএকা দাঠা তিদসপুরে, নাগপুরে অহু । একা গান্ধার বিসযে, একাসি… ( বিস্তারিত )
বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের বন্দনা
বুদ্ধের নয় গুণ বন্দনাইতি’পি সো ভগবা অরহং, সম্মাসম্বুদ্ধো, বিজ্জাচরণং সম্পন্নো, সুগতো, লোকবিদু,… ( বিস্তারিত )
আরও