২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৫ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ কৃষ্টি ও সভ্যতা

সারনাথ

বিশ্বের প্রচীনতম জীবন্ত শহর ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী। গঙ্গার পশ্চিম তীরে বরুণা ও অসি নদীর মিলনস্থলে জ্বলজ্বলে এক নক্ষত্রের মতো শহরটি। হিন্দুধর্মের পবিত্রতার প্রতীক আজকের বারাণসী তথা সেকালের কাশী। আর এই কাশী থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সারনাথ, আরেকটি ধর্মের তীর্থস্থান। বৌদ্ধধর্ম। বৌদ্ধধর্মের উন্মেষ এই সারনাথেই। সারনাথে সিদ্ধার্থ প্রথম মহাধর্মচক্র প্রবর্তন করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রচার করেন তাঁর পাঁচজন শিষ্যের মাঝে। সুজাতার হাতে পায়েস গ্রহণের ফলে বুদ্ধের প্রতি রুষ্ট হয়ে তাঁর…

লুম্বিনী

লুম্বিনী একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় তীর্থস্থান যা নেপালের রূপান্দি জেলায় অবস্থিত। এই স্থানেই রানী মায়াদেবী সিদ্ধার্থ গৌতমকে জন্ম দান করেন। সিদ্ধার্থ গৌতম খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং তিনি গৌতম বুদ্ধ নামে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন। গৌতম বুদ্ধের জীবনের সাথে জড়িতে প্রধান চারটি স্থানের এটি একটি; অপর তিনটি হলো কুশীনগর, বুদ্ধগয়া এবং সারনাথ। লুম্বিনীতে গৌতম বুদ্ধ ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন এবং এখানে মায়াদেবী মন্দিরসহ আরও অসংখ্য বৌদ্ধ…

কঠিন চীবর দান

কঠিন চীবর দান, বৌদ্ধ ধর্মের একটি ধর্মীয় আচার, ও উৎসব, যা সাধারণত বাংলা চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী প্রবারণা পূর্ণিমা (ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা) পালনের এক মাসের মধ্যে যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে ত্রি-চীবর নামে বিশেষ পোশাক দান করা হয়। ধর্মাবলম্বীগণ পূণ্যের আশায় প্রতি বছর এভাবে চীবরসহ ভিক্ষুদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীও দান করে থাকেন। ত্রি-চীবর হলো চার খণ্ডের পরিধেয় বস্ত্র, যাতে রয়েছে দোয়াজিক, অন্তর্বাস, চীবর ও কটিবন্ধনী। এই…

প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এর অপর নাম আশ্বিনী পূর্ণিমা। ‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বারণ করা, নিষেধ করা ইত্যাদি। ‘বারণ করা’ অর্থে বিশুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালিত করার আদর্শে ব্রতী হওয়া, আর ‘নিষেধ’ অর্থে আদর্শ ও ধর্মাচারের পরিপন্থী কর্মসমূহ পরিহার করাকে বোঝায়। বর্ষাবাস সমাপনান্তে ভিক্ষুসংঘ আপন আপন দোষত্রুটি অপর ভিক্ষুসংঘের নিকট প্রকাশ করে তার প্রায়শ্চিত্ত বিধানের আহবান জানায়। এমনকি অজ্ঞাতসারে কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।…

ফাল্গুনী পূর্ণিমা

বুদ্ধত্ব লাভের পর দীর্ঘকাল পিতা- স্ত্রী-সন্তানসহ জ্ঞাতিদের সঙ্গে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয়নি। সবার মতো পিতা শুদ্ধোদনও বুদ্ধদর্শনে উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। তাই রাজা শুদ্ধোদন একদিন বুদ্ধের নিকট দূত পাঠান। দূত বুদ্ধবাণীতে আত্মহারা হয়ে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে বুদ্ধের নিকটই থেকে যায়। এমনিভাবে রাজপ্রাসাদের অনেকেই বুদ্ধের নিকট গিয়ে প্রব্রজিত হয়ে আর ফিরে আসে না। এদিকে শুদ্ধোদনের বুদ্ধদর্শন বাসনা তীব্রতর হয়ে ওঠে। বার বার দূত পাঠিয়ে তিনি হতাশ হন। অবশেষে শুদ্ধোদন কালুদায়ি নামে সিদ্ধার্থের এক…