২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী

গঙ্গামান জাতক

রবিবার, ০৮ মে ২০১৬ ১৭:৩০ প্রতীক

অতীতকালে বারাণসী নগরে শূচিপরিবার নামক এক শ্রেষ্ঠী ছিলেন। তাঁহার ৮০ কোটি টাকার সম্পদ ছিল। তিনি অতিশয় দাতা ছিলেন, সর্বদা শীল পালন করিতেন এবং উপোসথ দিবসে উপোসথ রক্ষা করিতেন। তাঁহার স্ত্রী, পুত্র এবং পরিবারের অপর লোক, এমনকি সেই বাড়ির রাখাল বালকও মাসের দুই দিবসে উপোসথ পালন করিতেন। এসময়ে বোধিসত্ত্ব এক দরিদ্রের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি দিন মজুরি করিয়া অতিকষ্টে দিনযাপন করিতেন। চাকুরী খুঁজিতে খুঁজিতে তিনি একদিন শ্রেষ্ঠীর নিকট গিয়া বন্দনা করিয়া এক পার্শ্বে দাঁড়াইয়া রহিলেন। শ্রেষ্ঠীর নিয়ম ছিল যে যদি কেহ তাঁহার বাড়িতে কাজ করিতে আসিলে তিনি বলিতেন- “আমার বাড়িতে কাজ করিতে হইলে শীল রক্ষা করিতে হয়। যদি তুমি শীল রক্ষা করিতে পার তবে কাজ কর।” কিন্তু বোধিসত্ত্বকে কিছু না বলিয়া কাজে নিযুক্ত করিলেন। বোধিসত্ত্ব খুব পরিশ্রমের সহিত কাজ করিতে লাগিলেন। প্রাতেই কাজে গিয়া সন্ধ্যার সময় ফিরিয়া আসিতেন। একদিন শ্রেষ্ঠী দাসীকে বলিলেন- “আজ উপোসথ দিবস, সকালে চাকরদের অন্ন করিয়া দাও, তাহারা সকলে খাইয়া উপোসথ করিতে যাইবে।” বোধিসত্ত্ব সকালেই কাজে আসিলেন কিন্তু কেহ তাহাকে উপোসথের কথা বলিল না। অপর চাকরগণ সকলেই অষ্টশীল গ্রহণ করিল। শ্রেষ্ঠী স্বয়ং স্ত্রী, পুত্র, পরিজন লইয়া উপোসথ গ্রহণ করিলেন। সকলে অষ্টশীল গ্রহণ করিয়া নিজের বাসস্থানে গিয়া শীলানুস্মৃতি ভাবনা করিতে বসিল। বোধিসত্ত্ব সমস্তদিন কাজ করিয়া সূর্য অস্তের সময় আসিলেন। তৎপর বাড়ির দাসী হাত ধোবার জল দিয়া পাতে ভাত বাড়িয়া দিল। তিনি চিন্তা করিলেন অন্য দিনে এই বেলায় মহা গোলমাল হয়। আজ সকলে কোথায় গেল? জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিলেন সকলে উপোসথ প্রহণ করিয়াছে। তাঁহার মনে বড় দুঃখ হইল। তিনি ভাবিলেন এতগুলি শীলবান লোকের মধ্যে মাত্র আমিই দুঃশীল। না, এইভাবে আমি বাস করিব না। এখন উপোসথ শীল গ্রহণ করিলে কোন ফল হয় কিনা? তিনি তাড়াতাড়ি শ্রেষ্ঠীর কাছে গিয়া এই বিষয় জিজ্ঞাসা করিলেন। শ্রেষ্ঠী বলিলেন- “প্রাতে উপোসথ গ্রহণ করিলে পূর্ণফল হয়। এখন গ্রহণ করিলে অর্ধফল লাভ হইবে।” বোধিসত্ত্ব তাহা যথেষ্ট মনে করিয়া শ্রেষ্ঠীর নিকট শীল গ্রহণ করিয়া নিজের বাসস্থানে গিয়া শীলানুস্মৃতি ভাবনা করিতে লাগিলেন। কিন্তু সমস্তদিন অনাহারে থাকায় শেষরাত্রে ভয়ানক পেট ব্যথা হইল। শ্রেষ্ঠী নানা ঔষধ দিল। তিনি ঔষধ সেবন না করিয়া যতক্ষণ প্রাণ আছে ততক্ষণ শীল ভাঙ্গিবেন না বলিয়া সংকল্প করিলেন। একসময় বেদনা খুব প্রবল হইল। সূর্য্যােদয়ের সময় চেতনাহীন হইয়া পড়িলেন। ঠিক সেই সময় এ বারাণসী রাজ বৃহৎ রথে আরোহন করিয়া বহু অনুচর সহ মহাসমারোহে নগর প্রদক্ষিণ করিতে করিতে সেই স্থানে আসিলেন। তাঁহার শ্রীসম্পদ দেখিয়া বোধিসত্ত্বের লোভ হইল এবং মনে মনে রাজা হইবার প্রার্থনা করিলেন। শীলবানের প্রার্থনা পূর্ণ হইয়া থাকে। তিনি মৃত্যুর পর অর্ধ উপোসথের ফলে বারাণসী রাজার পাটরানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করিলেন। যথাসময়ে তিনি ভূমিষ্ট হইলেন এবং অতি যত্নে লালিত পালিত হইলেন। এ জন্মে তাঁহার নাম হইল উদয় কুমার। উপযুক্ত বয়সে তিনি নানা শাস্ত্রে পারদর্শী হইলেন এবং পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহন করিলেন।