২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী

ত্রিপিটক পরিচিতি

মাতৃপোষক জাতক

পুরাকালে বারণসী রাজা ব্রম্মদত্তের সময় বোধিসত্ত্ব হস্তীকুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দেহটি শ্বেতবর্ণ ও অতি সুব্দর ছিল। তিনি আশীহাজার হাতির অধিপতি ছিলেন। বোধিসত্ত্বের মাতা অন্ধ ছিলেন। বোধিসত্ত্ব তাঁর অন্ধ মাতার জন্য নানা রকমের মিষ্টি ফল অন্য হাতিদের দিয়ে তাঁর মার কাছে পাথিয়ে দিতেন। কিন্তু তারা সেই ফল তাঁর মাকে না দিয়ে নিজেরাই খেয়ে ফেলত। তখন বোধিসত্ত্ব স্থির করলেন, তিই এবার হতে দলের আদিপত্য ত্যাগ করে অন্যকোথাও গিয়ে মার সেবা করবেন। এই…

কচ্ছপ জাতক

পুরাকালে বারাণসী নগরে ব্রহ্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁহার সময়ে বোধিসত্ত্ব কাশী রাজ্যে কোনো এক ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। বয়সপ্রাপ্ত হইলে তিনি তক্ষশীলায় গমন করিয়া বহুবিধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করিলেন। অনন্তর বীতকাম হইয়া তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করিয়া হিমবৎ প্রদেশে গঙ্গাতীরে এক আশ্রম নির্মাণ করিয়া তথা ধ্যানে লিপ্ত হইলেন। এই জন্মে বোধিসত্ত্ব সমুদয় জ্ঞানের মধ্যে স্থৈর্য বা উপেক্ষায় বিশেষভাবে পারদর্শী হইয়াছিলেন। ধ্যানকালে বোধিসত্ত্ব যখন পর্ণকুটীরের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করিতেন, তখন একটি দুঃশীল, প্রগল্ভ মর্কট…

কামনাহীন জাতক

পুরাকালে যখন ব্রম্মদত্ত বারণসী রাজা ছিলেন তখন বোধিসত্ত্ব কাশীরাজ্যে এক ব্রাম্মণবংশে জন্মগ্রহন করেন। বয়ঃপ্রাপ্তির পর তিনি বিষয় কামনা ত্যাগ করে ঋষিপ্রবজ্যা গ্রহন করেন এবং হিমালয় প্রদেশে অবস্থান করতে থাকেন। কিছুকাল পর তিনি পরবত হতে নেমে এসে রক গ্রামের নিকট গঙ্গার রক বাঁকের মাথায় এক পর্ণশালা নির্মাণ করে বাস করতে লাগলেন। এইসময় এক পরিব্রাজক তাঁর সঙ্গে বিচার করতে সক্ষম এমন কোন লোক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একদিন সেয় পরিব্রাজক সেই গ্রামে এসে…

মদমত্ত জাতক

বারাণসীর রাজা ব্রম্মদত্তের সময়ে বোধিসত্ত্ব একবার বাজিকরকুলে জন্মগ্রহন করেছিলেন। বড় হয়ে তিনি জ্ঞানবান ও উপায় কুশল হয়েছিলেন। সেই বাজিকরেরা গাড়ীর উপর দাঁড়িয়ে নাচত ও খেলা দেখাত। বোধিসত্ত্ব এক বাজিকরেরকাছে শক্তিলঙ্ঘন বিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন। পরপর কয়েকটি সাজানো ধারালো অস্ত্র লাফ দিয়ে পার হবার কৌশল আয়ত্ত করে সেই খেলা দেখিয়ে জীবিকা অর্জন করতেন বোধিসত্ত্ব । তাঁর বাজিকর শিক্ষক চারটি অস্ত্র লঙ্ঘনের কৌশল জানতেন। একদিন ঐ আচার্য বাজিকর বোধিসত্তকে সঙ্গে নিয়ে কোন এক…

গঙ্গামান জাতক

অতীতকালে বারাণসী নগরে শূচিপরিবার নামক এক শ্রেষ্ঠী ছিলেন। তাঁহার ৮০ কোটি টাকার সম্পদ ছিল। তিনি অতিশয় দাতা ছিলেন, সর্বদা শীল পালন করিতেন এবং উপোসথ দিবসে উপোসথ রক্ষা করিতেন। তাঁহার স্ত্রী, পুত্র এবং পরিবারের অপর লোক, এমনকি সেই বাড়ির রাখাল বালকও মাসের দুই দিবসে উপোসথ পালন করিতেন। এসময়ে বোধিসত্ত্ব এক দরিদ্রের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি দিন মজুরি করিয়া অতিকষ্টে দিনযাপন করিতেন। চাকুরী খুঁজিতে খুঁজিতে তিনি একদিন শ্রেষ্ঠীর নিকট গিয়া বন্দনা করিয়া…